আজ আসছে শহীদ বিএসএফ জওয়ানের মৃতদেহ

saheedনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ নভেম্বর৷৷ জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তানের পোঁতা ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণে শহীদ রাজ্যের যুবক বিএসএফ জওয়ান শম্ভু সাতমুড়ার মরদেহ শুক্রবার সকালের বিমানে রাজ্যে আসবে৷ মৃতদেহ প্রথমে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে৷ সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর বিরাট আয়োজনও করা হয়েছে৷ এদিকে, মায়ের বুক ফাটা কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে  আগরতলা শহর সংলগ্ণ সুভাষ নগর ও প্রতাপগড় এলাকায়৷  ঐ এলাকার শম্ভু সাতমুরা নামে এক তরতাজা যুবক দেশের জন্য আত্মবলিদান দিয়েছেন জম্মু কাশ্মীর সীমান্তে৷ কাশ্মীর সীমান্তে পাক সেনাবাহিনীর হামলায় বুধবার সন্ধ্যা রাতে শহীদ হন শম্ভু৷ এই খবর বাড়িতে পৌঁছতেই বুক চাপড়ে কেঁদে চলেছেন তার মা বীণা দেবী ও আত্মীয়পরিজনরা৷ শম্ভুর বাবা শিবচরণ সাতমুড়াও সেনাবাহিনীতে চাকুরি করতেন৷ অবসরে এসে কয়েক বছর বাড়িতে থেকে  হঠাৎই নিরুদ্দেশ হয়ে যান৷ একমাত্র পুত্র শম্ভু পিতার পথকে পাথেয় করেই ২০০৭ সালে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীতে যোগ দেয়৷ বছর তিনেক আগে সংসার জীবনে আবদ্ধ হয় শম্ভু৷ গত জুন মাসে শম্ভু শেষবারের মত তার নিজবাড়িতে এসেছিল৷ আগামী সোমবার আবার বাড়িতে আসার কথা ছিল৷ সে অনুযায়ী ছুটিও মঞ্জুর হয়েছিল৷ কিন্তু বাড়িতে ফেরা হল না ঐ সেনা জওয়ানের৷ পাক সেনাবাহিনীর গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শম্ভুর নিথর দেহ৷ সেনাবাহিনীর তরফ থেকে শহীদ শম্ভুর বাড়িতে ফোন আসলে তারা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না শম্ভু আর বেঁচে নেই৷ কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে৷ দেশ সেবায় নিয়োজিত বীর জওয়ান শম্ভু নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেশ রক্ষার শেষ চেষ্টা করে গেছে৷ সেনাবাহিনীর তরফে শম্ভুকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে৷ নিয়ম অনুযায়ী তার মরদেহ কফিন বন্দি করে আগরতলায় পাঠানো হচ্ছে৷ তার মৃত্যুর সংবাদে শুধু প্রতাপগড় ও সুভাষ নগর এলাকাতেই নয়, গোটা রাজ্যেই রীতিমত শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্রভবনের সামনে রাষ্ট্রবাদী নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে শহীদ জওয়ান শম্ভু সাতমুড়ার স্মৃতির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়৷ এখানে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রবাদী নাগরিক মঞ্চের সদস্যরা৷ উপস্থিত ছিলেন বহু সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানও৷ মোমবাতি জ্বালিয়ে তঁার চিরশান্তি কামনা করা হয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *