রিয়াং শরণার্থী প্রত্যাবর্তন পিছিয়ে জানুয়ারিতে

naisingpara-reang-campনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ নভেম্বর৷৷ রিয়াং শরণার্থীদের স্বভূমে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দিল্লিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ সূত্রের খবর, আগামী ১৫ জানুয়ারী থেকে ত্রিপুরায় আশ্রিত রিয়াং শরণার্থীদের মিজোরামে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার প্রক্রিয়া শুরু হবে৷ ইতিমধ্যে প্রায় ৪৩০৩টি রিয়াং শরণার্থী পরিবারকে মিজোরাম সরকার চিহ্ণিত করেছে৷ তাতে মোট জনসংখ্যা ২৬০২৬ জন৷
সূত্র অনুসারে জানা গেছে, সরকারী তথ্য অনুসায়ী যে হিসাব ছিল তার থেকে অনেক বেশী চিহ্ণিত হয়েছেন৷ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর থেকে ত্রিপুরায় বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রিত রিয়াং শরণার্থীদের মিজোরামে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার কথা ছিল৷ কিন্তু রিয়াং শরণার্থীদের চিহ্ণিতকরণ সহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে পূর্ব ঘোষিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না৷
জানা গেছে, ৫ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলেছে রিয়াং শরণার্থীদের চিহ্ণিতকরণ প্রক্রিয়া৷ মিজোরাম সরকারের ২৬ জন আধিকারিক এই চিহ্ণিতকরণ প্রক্রিয়ার কাজে নিয়োজিত ছিলেন৷ সূত্রের খবর, চিহ্ণিতকরণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও রিয়াং শরণার্থীদের প্রথম পর্যায়ে প্রত্যাবর্তনের পর আবারও এই প্রক্রিয়াটি শুরু করা হবে৷
এদিকে, রিয়াং শরণার্থীরা মিজোরামে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু দাবি রেখেছেন৷ নিরাপত্তা, বাসস্থান এবং অন্নের যোগান সুনিশ্চিত না হলে রিয়াং শরণার্থীরা মিজোরামে ফিরে যেতে চাইছেন না৷ বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সত্যেন্দ্র গর্গ রিয়াং শরণার্থীদের প্রতিনিধি এবং মিজোরাম সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছেন৷ ঐ বৈঠকে রিয়াং শরণার্থীদের প্রতিনিধিরা তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরেছেন বলে সূত্র অনুসারে জানা গেছে৷ সূত্রের আরো খবর, কেন্দ্র মিজোরাম সরকারকে রিয়াং শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে সমস্ত কিছু সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে৷ মিজোরাম সরকার অবশ্য ত্রিপুরায় আশ্রিত রিয়াং শরণার্থীদের স্বভূমে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছে৷ কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে পূর্ব ঘোষিত সময় অনুযায়ী রিয়াং শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন সম্ভব হচ্ছে না৷ তবে, আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারি প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *