নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ নভেম্বর৷৷ ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল হতেই কালোকারবারীরা নয়া ফন্দি এঁটেছেন কালো টাকা সাদা করার লক্ষ্যে৷ দেশজুড়েই এই চেষ্টা চলছে৷ বাদ যায়নি পার্বতী রাজ্য ত্রিপুরাও৷ সূত্র অনুসারে জানা গেছে, রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে ভারতীয় টাকা এবং বাংলাদেশী টাকা এক্সচেঞ্জ মূল্য সমান৷ আইনী পথে ভারতীয় টাকার বদলে বাংলাদেশী টাকা এক্সচেঞ্জ করলে প্রতি ১০০ টাকায় বাংলাদেশী টাকায় ১১২, কখনো ১২০ টাকা পাওয়া যায়৷ কিন্তু এখন ভারতীয় ১০০ টাকা দিলে বাংলাদেশী ১০০ টাকা মিলছে৷ এছাড়াও গত কয়েকদিনে রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত নিকটবর্তী এলাকাগুলির বাজারে গরু বিক্রি বেড়ে গেছে৷ সূত্রের দাবি, এপারের কালোবাজারীরা বাতিল টাকায় গরু কিনে বাংলাদেশে পাচার করে দিচ্ছে৷ সেখান থেকে বাংলাদেশী টাকা এনে এপারে ভারতীয় টাকায় এক্সচেঞ্জ করে নিচ্ছেন৷
ফলে, এখন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বিএসএফ এবং পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি আয়কর দপ্তরেরও নজরদারির বিশেষভাবে প্রয়োজন দেখা দিয়েছে৷ ইতিমধ্যে গোটা দেশে আয়কর দপ্তর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বাতিল নোট উদ্ধার করেছে৷ রাজ্যে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে এই অবৈধ কারবার বন্ধ করতে আয়কর দপ্তরকেই প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে রাজ্য প্রশাসনের জনৈক শীর্ষ কর্তা মনে করেন৷ তার মতে, রাজ্যে কালোবাজারীরা এখন নানাভাবে ফন্দি এঁটে চলেছেন কালো টাকা সাদা করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে৷ এক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়কর দপ্তর কালো টাকা রোধে যে দায়িত্ব পালন করছে রাজ্যেও সেই উদ্যোগ গ্রহণ করার যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে৷ তাঁর দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে প্রতিনিয়তই কালোকারবারী হচ্ছে৷ সেখানে বিরাট সংখ্যায় আর্থিক লেনদেন হচ্ছে৷ ভারতীয় টাকার সাথে বাংলাদেশী টাকার এক্সচেঞ্জ মূল্য সমান হলেও কালোকারবারীরা তাতে ফায়দাই দেখছেন৷ স্বাভাবিকভাবে, ঐ কালোকারবারীদের শীঘ্রই চিহ্ণিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে৷
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে যারা বাংলাদেশে যান কিংবা বাংলাদেশ থেকে এপারে আসেন তাদের জন্য টাকা এক্সচেঞ্জ করার সরকারের তরফে ব্যবস্থা করা আছে৷ কিন্তু আখাউড়া সীমান্ত এলাকার আশেপাশে বেশ কয়েকজন বেআইনীভাবে টাকা এক্সচেঞ্জ করে দেন৷ এমনটা গোটা রাজ্যেই হচ্ছে৷ যার কারণে অবৈধভাবে বহু মানুষ সহজে এপার থেকে ওপারে যাতায়াত করতে পারছেন৷ তাদের টাকার সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না৷ ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করার মূল উদ্দেশ্য যেখানে কালো টাকা রোধ করা সেখানে সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে এখন বিশেষ নজরদারির যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে৷ শুধু তাই নয়, যে সমস্ত বাজারগুলিতে গরু বিক্রি হচ্ছে সেখানেও লেনদেনের বিষয়গুলি নজরদারিতে রাখা আবশ্যিক হয়ে উঠেছে৷ অন্যথায় কালো টাকা রোধ করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন একাংশ প্রশাসনিক কর্তারা৷
2016-11-16