নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ নভেম্বর৷৷ নোট বাতিলের পদক্ষেপে দেশে চুনোপুটিরা চাপে পড়লেও রাঘববোয়ালরা অনায়াসে

ভেসে বেড়াতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ তাঁর যুক্তি, অর্থনৈতিক প্রশ্ণে গত লোকসভা নির্বাচনের সময় দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নির্বাচনের পর সেসব প্রতিশ্রুতির একটাও রূপায়ণ হয়নি৷ জিনিষপত্রের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে৷ বাড়ছে মুদ্রাস্ফীতি৷ একই সঙ্গে বাড়ছে কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাও৷ স্বাভাবিক ভাবেই এতে মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে৷ এই পরিস্থিতি থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেবার জন্যই সারা দেশে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল করা হয়েছে৷ এটা নিছকই একটি গিমিক৷ তাতে মূল যে লক্ষ্যের কথা বলা হচ্ছে, তার আসলটাই পূরণ হবে না বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বুধবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বালিত করে দেয়া সম্পর্কে প্রতিক্রিয়ায় একথা বলেন তিনি৷
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্ণের উত্তরে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত নেবার পেছনে যে চারটি কারণ গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন সেগুলি হচ্ছে এর মাধ্যমে কালো টাকার আধিক্য বা বাড়াবাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা, জাল নোট নিয়ন্ত্রণ করা, সন্ত্রাসবাদীদের কাছে টাকা-পয়সার আদান প্রদান বন্ধ করা এবং সর্বোপরী দুর্নীতি রোধ করা৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া যাবেনা৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা রাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়ে কালো টাকা জমা রাখছেন তারা বাড়ীতে বস্তা দিয়ে ৫০০ বা ১০০০ টাকার নোট রাখবেন না এটা প্রধানমন্ত্রী নিজেও জানেন৷ তিনি বলেন, বিদেশের ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের কোটি কোটি টাকা পড়ে রয়েছে৷ দল ক্ষমতায় জিতলে এই টাকা ফিরিয়ে এনে প্রতিটি ভারতবাসীর একাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে ঢুকিয়ে দেয়া হবে বলে নরেন্দ্র মোদীর দলই ঘোষণা করেছিল৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাহলে বুঝে নিন কত টাকা চুরি করে ব্যাঙ্কে রাখা আছে৷ এখন এই টাকার কী হবে? বর্তমান সরকার যে ক্ষমতাসীন হয়েছে তা ৯০০ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে৷ অথচ এই টাকা ফিরিয়ে আনার কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷ প্রধানমন্ত্রী বা তার দলের নেতারা এনিয়ে এখন কিছু বলছেননা৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি আজ স্পষ্ট কোন গ্রহণযোগ্য বক্তব্য রাখতে পারেননি৷ মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ণ, বাজারে যে নতুন নোট আসছে তা নকল করা কি খুব কঠিন হবে? এটা ঘটনা আমাদের দেশে জাল নোটের সমস্যা নতুন নয়৷ এটা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে৷ এভাবে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এর গ্যারান্টি কোথায়? মুখ্যমন্ত্রী শ্রী সরকার বলেন, সন্ত্রাসবাদীরা এক আন্তর্জাতিকচক্র৷ সন্ত্রাসবাদীরা নগদে টাকা, পয়সা আদান প্রদান করে থাকেন এটা সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষও বিশ্বাস করেননা৷ তিনি বলেন, আমাদের দেশের ব্যাঙ্কগুলিতে যে অর্থ জমা আছে তা থেকে সমাজের অনেক উচুঁতে থাকা লোকের ঋণ নিচ্ছেন৷ ঘটনা হল তাদের মধ্যে যারা ঋণ খেলাপী আছেন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের রেহাই দেবার জন্য বর্তমান সরকারের রাতের ঘুম ছুটে গেছে৷
প্রধানমন্ত্রীর গতকালের ঘোষণাকে নিছক চমক হিসাবে অভিহিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের সব জায়গায় ব্যাঙ্ক নেই৷ সবার ব্যাঙ্ক একাউন্টও আছে কিনা প্রশ্ণ ছুঁড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গতকালের ঘোষণায় সাধারণ মানুষ ভীষণ অসুবিধায় পড়েছেন৷ সাধারণ ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের হয়রানির অন্ত নেই৷ যাদের ছেলেমেয়ের বিয়ে আছে তাদের অবস্থা কী হবে? মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গতকাল ঘোষণা দিয়ে যেভাবে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল করা হয়েছে তা কেনা পন্থা নয়৷ এতে কিছু চুনোপুটি চাপে পড়লেও রাঘববোয়ালের কিছু হবেনা৷ সত্যিই যদি কিছু করার ইচ্ছা থাকে তাহলে বিদেশের ব্যাঙ্কে যাদের অর্থ জমা আছে তাদের নামের তালিকা কেন প্রকাশ করা হচ্ছেনা? ঋণ খেলাপীদের নামের তালিকা কেন প্রকাশ করা হচ্ছেনা? কেন তাদের কাছ থেকে ঋণের বকেয়া টাকা আদায় করা হচ্ছেনা? কেন্দ্রীয় সরকারের চমক দেবার পদক্ষেপ শুরুতেই ধরা পড়ে গেছে বলে মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন৷