বৃষ্টিতে ধান চাষে ব্যাপক ক্ষতি গোটা রাজ্যে, চাষীদের মাথায় হাত, মহার্ঘ্য হবে শাক-সব্জি

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ নভেম্বর৷৷ টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে রাজ্যের জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়ার পাশাপাশি চাষাবাদে

বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ ধান চাষ৷ খোয়াইয়ে তোলা নিজস্ব ছবি৷
বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ ধান চাষ৷ খোয়াইয়ে তোলা নিজস্ব ছবি৷

মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে৷ রাজ্যের গ্রামীন এলাকার অর্থনীতি এই বৃষ্টিতে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে৷ ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রচুর৷ আমন ধানের পাশাপাশি রবি ফসরে যে ক্ষতি হয়েছে তাতে কৃষকদের মাথায় হাত৷ শীতকালীন সব্জি চাষের ক্ষেত্রে কৃষকরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন৷ তাছাড়া ধানের ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে৷ এবছর শীতকালীন সব্জি চাষে লাভের আশা করেছিলেন চাষীরা৷ কিন্তু প্রাকৃতিক এই বিপর্য্যয়ের ফলে চাষীরা দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন৷ এদিকে, বিভিন্ন মহল থেকে মত দিয়েছেন এবারে শীতকালীন শাক সব্জির দাম আরও বেড়ে যাবে৷ প্রতিটি মহকুমাতেই চাষী ভাইয়েরা প্রশাসনের তরফ থেকে আর্থিক সহায়তা দাবী করেছেন৷
উদয়পুর সংযোজন ঃ গত দুদিনের ভারী বর্ষণে জলমগ্ণ মন্দির নগরী উদয়পুরের বিভিন্ন এলাকা৷ জলে প্লাবিত গোমতী নদীর পার্শ্ববর্তীর বিভিন্ন এলাকা৷ বাড়িঘরে জল ঢুকে অনেকে এখন শরণার্থী হয়ে শহরের বিভিন্ন সুকলে অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে এসে দিনযাপন করছেন৷ বৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের৷ দুদিনের এই মশুলধারা বৃষ্টিতে মাথায় হাত চাষীদের বিশেষ করে আমন ধান ও শীতকালীন সবজি এখন জলের তলায়৷ মহকুমার কৃষি নির্ভর এলাকা বলে প রিচিত মহারাণী ও ছাতারিয়া এলাকায় লক্ষ লক্ষ টাকার ফসল ও সবজি ক্ষতি হয়েছে চাষীদের সোমবার সকালে মহারাণী এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বললে বিধায়ক মাধব সাহা৷ এদিকে মাতাবাড়ি এলাকায় রবিবার রাতের প্রবল বর্ষণে বেশ কয়েকটি বাড়ির মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে৷ তাছাড়া কিল্লা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত প্রত্যন্ত উপজাতি মহল্লা থলিবাড়ি এলাকায় রবিবার গভীর র াতে ঘরের মাটির দেওয়াল ভেঙে পড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ৪ জন গুরুতরভাবে আহত হয়৷ আহত সকলকে সঙ্গে সঙ্গে গোমতী জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জিবিতে রেফার করা হয়৷ বাকিদের চিকিৎসা চলছে গোমতী জেলা হাসপাতালে৷ এক কথায় দুদিনের প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্থ৷ মহকুমার শহর ও গ্রামীণ বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, এখন জলের তলে৷ গোমতীর জলও যেভাবে বাড়ছে তাতে বেশ চিন্তিত গোমতী নদীর পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষজন সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা৷ এদিকে, শনি-রবি দুদিনের প্রবল বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের সাথে কথা বলেন মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মাধব সাহা৷ সোমবার তিনি মহারাণী এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের সাথে কথা বলে সরকারিভাবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন৷ প্রসঙ্গত মহারাণী মহকুমার সবচেয়ে কৃষিনির্ভর এলাকা৷ মহারাণী এলাকার বেশিরবাগ মানুষ কৃষিকাজের উপরই নির্ভরশীল৷ কৃষিকাজ করেই পরিবার পরিজনদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেন৷ মহারাণীর কফি রাজ্যে খ্যাত৷ কিন্তু গত দুদিনের এই প্রবল বর্ষণে মহারাণীর চাষীদের মাথায় হাত৷ লক্ষ লক্ষ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে৷ জলের নীচে পড়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার সবজি ও ধানের জমি৷
কৈলাসহর সংযোজন ঃ গত তিনদিনের অবিরাম বৃষ্টির ফলে কৈলাসহর মহকুমার প্রায় সব এলাকার সব্জি সহ ধান ক্ষেতের মারাত্মক ক্ষতি হয়েএছ৷ এই ক্ষতির পরিমান কত তা এখনো সরকারী ভাবে কিছু জানা যায়নি৷ কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিটি এলাকা সফর করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে৷ কৈলাসহরের গ্রামাঞ্চলের আশি শতাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল৷ উঁচু এলাকায় যদিও ধানের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি৷ এবারে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল৷ কিন্তু বৃষ্টিতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে৷
এদিকে, রবি ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে৷ সব্জি চাষীরা রীতিমতো দিশেহারা অবস্থায়৷ বেগুন, টমেটু, মুলা, আলো সহ নানা ধরনের শীতকালীন সব্জির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে৷ অনেকে জমিতে শীতকালীন ফসল ফলানোর জন্য প্রস্তুত করে রেখেছিলেন৷ সেগুলিও নষ্ট হয়ে গিয়েছে৷ মাত্রাতিরিক্ত দাম দিয়ে বীজ ও সার কিনে ফসল ফলানোর পর এই ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্য্যয়ের মুখে পড়ে কৃষকদের মাথায় হাত৷
খোয়াই সংযোজন ঃ তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে খোয়াই জেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে৷ খোয়াইয়ের বিভিন্ন স্থানে ধান চাষের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে৷ দমকা হাওয়া আর অনবরত বৃষ্টির ফলে শীতকালীন ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে৷ এই মুহুর্তে সরকারী সাহায্য অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে কৃষকদের জন্য৷ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছুটে যাচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে৷ বর্ষার গোটা একটা মরশুম শেষ হয়ে অনাকাঙ্খিত বৃষ্টির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এখন মাথায় হাত৷ যদিও সোমবার দিনভর তেমন বৃষ্টি হয়নি৷ তবে আকাশের মুখ ছিল ভার৷
তেলিয়ামুড়া সংযোজন ঃ কয়েকদিনে বিরামহীন বৃষ্টি ধারায় তেলিয়ামুড়ার বিভিন্ন জায়গায় জলের প্লাবনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশাল৷ জলের স্রোতধারায় নষ্ট হচ্ছে কৃষকদের ধানের জমি সহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত৷ এমনই একটি বন্যা কবলিত এলাকা হল কল্যাণপুর ব্লকের ঘিলাতলী পঞ্চায়েতের পুলিন চৌমুহনী এলাকায়৷ বিরামহীন বৃষ্টিতে খোয়াই নদীর জল ফুলে এলাকার বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেত, এলাকাটি কৃষি প্রধান এলাকা, এলাকার ৮০-৯০ পরিবার কৃষিজ ফসলের উপর নির্ভর করে সংসার প্রতিপালন করে৷ এর মধ্যে কেউ বা নিজের জমি কেউ বা অন্যের কাছ থেকে বর্গা জমি নিয়ে ফসল ফলায়৷ এলাকার কৃষকরা জানায় ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে, কেউবা শোধের টাকা ধার নিয়ে বেগুন ক্ষেত, ধান ক্ষেত, পটল ক্ষেত, মরিচ ক্ষেত, ধনিয়া ক্ষেত করে সংসার প্রতিপালন, ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার খরচ বহন করেন৷ কিন্তু বিরামহীন বর্ষণের ফলে তাদের প্রায় ৮০ কানি জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়৷ মাথায় হাত এলাকার কৃষকদের আগামীদিনে তারা কিভাবে সংসার চালাবেন তা চিন্তা করেই কেঁদে উঠেন৷ নষ্ট হয়ে গেছে সমস্ত সবজির ক্ষেত, সহ ধান ক্ষেত৷ তারা চাইছে সরকারি সাহায্য৷ এই ধান ও সবজি ক্ষেতের নষ্টের ফলে আগামীদিনে যেসবজির বাজারে বাজার দর বৃদ্ধি পাবে না তা বলা বাহুল্য৷ টানা বর্ষনে কৃষকদের উৎপাদিত ফলস জলমগ্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে দুদিন ধরে ক্ষয়ক্ষতি পরিমান বহু কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ৷
কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২নং ওয়ার্ডের অধিকাংশে বাসিন্দা কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল তাদের উৎপাদিত ফসল হাটে বিক্রি করে যে পয়সা পায় তা দিয়েই কৃষকদের উনুনে হাঁড়ি বসে৷ তিনদিন ধরে অনবরত অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে সমতলে জল জমে যায়৷ অপতদিকে কৃষকদের জমির গা ভেসে বয়ে গেছে খোয়াই নদী অবিরাম টানা বর্ষনে খোয়াই নদীর জল ফুলে ফাঁপড়ে উঠে নদী সমুদ্রের রূপ নেয় যার ফলে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল ধান, মরিচ, বেগুন, কপি, আলো, সিম, অন্য সাক সব্জি জলমগ্ণ হয়ে জলের নিচে তলিয়ে যায়৷ বর্তমানে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ কি করে তাদের উনুনে হাঁড়ি বসবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *