জমির বিনিময়ে চাকুরী না পেয়ে সুকলে বসতি দানকর্তার, দেড় মাস পর ব্যবস্থা নিল প্রশাসন

churaibariনিজস্ব প্রতিনিধি, চুড়াইবাড়ি, ৫ নভেম্বর৷৷  দীর্ঘ দেড় মাস ধরে সরকারী সুকল ঘর দখল করে বসতি স্থাপন করে পঠন পাঠনের কাজে বাঁধা দেওয়ায় আজ চুরাইবাড়ি থানা বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদ করে৷ চুরাইবাড়ি থানাধীন উত্তর ফুলবাড়ি পঞ্চায়েতের ৩নং ওয়ার্ডের বসিন্দা রহমত আলি (৭৫) তার নিজস্ব ভিটে মাটি থেকে আধকানি জায়গা সরকারী সুকল নির্মানের জন্য দান করেন৷ তাতে পঞ্চায়েতের তৎকালিন প্রধান সহ এলাকার মাতববরাদের নিয়ে মৌখিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় দানকৃত ভূমির বদলে সরকারী চাকুরী প্রদান করা হবে৷ সেই অনুসারে জায়গা দান করে রহমত আলি৷ অবশ্য সেই ভাবে  ২০১২- ১৩ অর্থবছরে নির্মিত হওয়া সুকলঘরটি প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে যাত্রা শুরু করে৷ মাঝে মধ্যেই রহমত আলি এলাকার শাষকদলীয় নেতাসহ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে বিভিন্ন মাতববরদের দরজায় গিয়েও কোন লাভ হয়নি৷ একটি সরকারী চাকুরী জুটেনি ভাগ্যে৷ উল্টো দলীয় নেতারা একের পর এক মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান চাকুরী হবে বলে৷ কিন্তু কোন মিমাংসা না পেয়ে অবশেষে আজ থেকে ৪৫ দিন পূর্বে রহমত আলি উনার দুই পুত্র সহ পুত্রবধূদের নিয়ে সুকলের মূল ঘরেই বসবাস শুরু করেন৷ তাতে যেমন পড়াশুনার বাঁধা হয় তেমনি ছাত্রছাত্রীরা বাইরে খোলামাঠে গাছের তলায় নিত্যদিনের ক্লাস করে যাচ্ছে৷  সুকলে মোট ৬০ জন ছাত্রছাত্রীসহ দুজন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন৷ তাতে দীর্ঘ দেড়মাস যাবৎ সুকলের পঠন পাঠন বিঘ্ন ঘটায় এলাকাবাসী সহ শাসকদল  সিপিআই(এম) এর নেতা, প্রধান, উপপ্রধানরা বুঝানোর পরও কোন কাজ হয়নি৷ অবশেষে আজ ধর্মনগর মহকুমা শাসকের আদেশে ডি সি এম তরুন কান্তি সরকার বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে জবর দখলকারীদের উচ্ছেদ করেন৷ তালা ভেঙ্গে দুই ছেলে ও  বৃদ্ধ রহমত আলিসহ পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *