জিএসটি নিয়ে ধোঁয়াশার সমাপ্তি, চারটি স্তরে পণ্য পরিষেবা কর সংগ্রহে কাউন্সিলের মোহর

gst-logoনয়াদিল্লি, ৩ নভেম্বর৷৷ চারটি স্তরে সংগ্রহ হবে পণ্য পরিষেবা কর৷ ৫,১২, ১৮ এবং ২৮ শতাংশ হারে কর সংগ্রহ করা হবে৷ পণ্য পরিষেবা কর তথা জিএসটি নিয়ে এই সিদ্ধান্তে ঐকমত্যে এসেছে কেন্দ্রের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পরিষদীয় কমিটি তথা জিএসটি কাউন্সিল৷ সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির নেতৃত্বাধীন পরিষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ তাতে গোটা দেশে চারস্তরীয় কর ব্যবস্থার উল্লেখ করা হয়েছে৷ এর পেছনে কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য, গোটা দেশেই সার্বিক কর কমানো এবং অত্যাবশ্যক সামগ্রীকে এর আওতার বাইরে রাখা৷ কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকেই চালু হোক গুডস এন্ড সার্ভিস ট্যাক্স বা পণ্য পরিষেবা কর৷ এদিকে, আগামীকালও বৈঠক হবে জিএসটি কাউন্সিলের৷ ধারণা করা হচ্ছে, ঐ বৈঠকে রাজ্যগুলি কত শতাংশ শেয়ার পাবে তা স্থির হতে পারে৷
সূত্রের খবর, কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিলাসবহুল গাড়ি, তামাকজাত পণ্য, পান মশলা এবং ঠান্ডা পানীয়কে সর্বোচ্চ করস্তরে রাখা হবে৷ অর্থাৎ ঐ পণ্যের উপর ২৮ শতাংশ কর সংগ্রহ করা হবে৷ একই সঙ্গে বসানো হবে সেসও৷ অন্যদিকে, গরিব মানুষের স্বার্থ এবং মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে খাদ্য শস্যের উপর কোন কর চাপানো হবে না৷ তবে, নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ওপর সর্বনিম্ন কর চাপানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাউন্সিল৷ এক্ষেত্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ওপর কর বসানো হবে ৫ শতাংশ৷ সূত্র অনুসারে জানা গেছে, জিএসটি কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সর্বোচ্চ করস্তরে থাকা সামগ্রীর ওপর অতিরিক্ত সেস বসানো হবে৷ যাতে করে তা বর্তমান করের সমান হয়৷ উদাহরণস্বরূপ, তামাকজাত পণ্যের ওপর বর্তমানে ৬৫ শতাংশ কর বসে৷ অন্যদিকে, ঠান্ডা পানীয়ের ওপর কর বসে ৪০ শতাংশ৷ নতুন কর ব্যবস্থা চালু হলে তামাকজাত পণ্যের ওপর বর্তমান করের ৬৫ শতাংশ থেকে নতুন করের ২৮ শতাংশ বাদ দিয়ে যা দাঁড়ায় তা ৩৭ শতাংশ সেস বসবে৷ যতদূর জানা গেছে, গত বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি কাউন্সিল৷
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছেন, যেসমস্ত সামগ্রীর ওপর এখন ৩০-৩১ শতাংশ কর বসছে, সেগুলিকেই সর্বোচ্চ স্তরে রাখা হবে৷ যদিও এর মধ্যেও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে৷ যেমন বহু এমন সামগ্রী রয়েছে যেগুলি মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারও ব্যবহার করে থাকে৷ ফলে, তাঁদের পক্ষে ৩০ শতাংশ কর অতিরিক্ত বোঝা হতে পারে৷ সূত্রের খবর, জিএসটি কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবার থেকে ঐ সব সামগ্রীকে ১৮ শতাংশের স্তরে রাখা হবে৷ ঐ তালিকাতে রয়েছে— সাবান, দাড়ি কামানোর সামগ্রী, টুথপেস্ট ইত্যাদি৷ সূত্রের খবর, কোন সামগ্রী কোন স্তরে থাকবে তা নির্ণয় করবে পৃথক একটি কমিটি, এমনটাই সিদ্ধান্ত কাউন্সিলের৷ জানা গেছে, বর্তমানে শুল্ক কর এবং ভেটের উপর ভিত্তি করেই তৈরি হবে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর চূড়ান্ত পণ্য পরিষেবা কর তথা জিএসটি৷ অবশ্য আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে জিএসটি চালু হলে রাজ্যগুলির যে ক্ষতির সম্মুখীন হবে তার জন্য ক্ষতিপূরণ কোষাগার পাঁচবছরের জন্য গঠন করা হবে৷ এদিনের বৈঠকে জিএসটি চালু হলে প্রথম বছর রাজ্যগুলিকে ক্ষতিপূরণ মেটাতে ৫০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে আলোচনা হয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *