স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

hammerনিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ২৯ মার্চ৷৷ নিজের স্ত্রীকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় স্বামী সঞ্জয় সরকার আদালতে দোষী সাবস্ত হয়ে আজীবন কারাবাসে গেল৷ সেই সঙ্গে তদন্তকারী অফিসারের দুর্বলতা জনিত কারনে এই খুনের মামলা থেকে মুক্তি পেল মৃত গৃহবধূর শ্বশুর তারনী সরকার এবং শ্বাশুড়ি সীতারানী সরকার৷ এই খুনের মামলায় চতুর্থ আসামী তথা সঞ্জয় সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রী পিংকি দাস (সরকার) অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়াতে তার বিচার চলছে জুবেনাল কোর্টে৷ খোয়াই এর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারপতি পঙ্কজ কুমার দত্ত এই খুনের ঘটনায় স্বামী সঞ্জয় সরকারকে ৩০২ এবং ৩০৪ (বি) ধারায় তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাবাসের শাস্তি ঘোষণা করেন এবং পাশাপাশি এক হাজার টাকাও জরিমানা করেন৷ চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল খোয়াই থানাধীন বারবিল গ্রামে৷ ঘটনার বিবরনে জানা যায়, খোয়াই থানাধীন বারবিল গ্রামের তারনী সরকারের ছেলে সঞ্জয় এর সঙ্গে সিধাই থানাধীন তারানগরের বাসিন্দা নৃপেন্দ্র নমঃ এর মেয়ে চিনুর সামাজিক ভাবে বিয়ে হয় ২০১৩ সালের ১৪ই জুলাই৷ এই বিয়েতে ছেলের বাবা তারনী সরকার নগদ একত্রিশ হাজার টাকা পণ হিসেবে আদায় করেন নৃপেন্দ্র নমঃ এর নিকট থেকে৷ জানা যায়, বিয়ের বছর খানেক পরই স্বামী সঞ্জয় তার স্ত্রীকে মারধর শুরু করে আরও ত্রিশ হাজার টাকা বাপের বাড়ী থেকে এনে দেওয়ার জন্য৷ ধীরে ধীরে অর্থের চাপ বাড়াতে থাকে স্বামী সহ তার শ্বশুর ও শাশুরী৷ এ ভাবে আরও কয়েক মাস অতিক্রমের পর সঞ্জয় সরকারের পুরো পরিবার চিনু নমঃ সরকারের উপর শারিরীক নির্যাতন শুরু করে৷ শেষে সঞ্জয় ২০১৪ইং সেপ্ঢেম্বর মাসে পিংকি দাস নামে এক নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে চিনু নমঃকে ডিভোর্স না করেই৷ ১ লা সেপ্ঢেম্বর ২০১৪ ইং বিকেলে চিনু নমঃ তার শ্বশুর বাড়ীতে একটি কলের সামনে বাসন মাজতে ব্যস্ত থাকলে ইঠাৎ তার পেছন থেকে এক ড্রাম কেরসিন তেল পিংকি দাস তার মাথায় ঢেলে দেয়৷ চিনু নমঃ কোন কিছু বুঝে উঠতে না পারার আগেই তার স্বামী সঞ্জয় দেশলাই এর কাঠি জ্বালিয়ে চিনুর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়৷ আগুন যখন চিনুকে গ্রাস করে ফেলে এবং তার আত্মচিৎকার বন্ধ হয়ে যায় তখন সঞ্জয় তার বাবা ও মা সকলে মিলে তাকে মৃত প্রায় অবস্থায় নিয়ে আসে খোয়াই হাসপাতালে৷ ঐ দিন রাতেই চিনু নমঃ জি বি হাসপাতালে মারা যায়৷ মেয়ের মৃত্যুর পরদিন ২রা সেপ্ঢেম্বর বাবা নৃপেন্দ্র নমঃ খোয়াই থানায় ঐ চার জনের বিরুদ্ধে স্বরযন্ত্র করে হত্যা করার অভিযোগ জানিয়ে মামলা করেন৷ এই চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনায় তৎকালীন এস ডি পি ও জ্যোতিষমান দাস চৌধুরী নিজে তদন্ত ভার গ্রহণ করেন৷ তদন্তকারী অফিসার এই খুনের ঘটনায় ৩২ জনকে সাক্ষী বানিয়ে পঁয়তাল্লিশ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশীট দেন চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে৷ এই মামলাটি পরিচালনা করেন সরকার পক্ষের আইনজীবি শৈলেন পাল৷
এদিন দোষি স্বামীকে সাজা ঘোষণা করায় স্থানীয় জনমনে কিছুটা স্বস্তি এসেছে৷ তবে শ্বশুর ও শাশুড়ি প্রমাণের অভাবে মুক্তি পাওয়ায় জনমনে কিছুটা অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে৷ প্রসঙ্গত, রাজ্যে পণের জন্য গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে৷ সামাজিক দিক থেকে এই বিষয়ে সচেতনতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের৷ শুধু বছরে একবার এই সচেতনতা কর্মসূচীকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং সারা বছর সচেতনতার কর্মসূচী নিতে হবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *