মাছ চাষের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনার অপরিসীম সম্ভাবনা রয়েছে: মৎস্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ এপ্রিল:
মাছ চাষের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনার অপরিসীম সম্ভাবনা রয়েছে। ত্রিপুরা রাজ্যকে মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য বর্তমান রাজ্য সরকার বিবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মৎস্য সম্পদা যোজনা এবং এনইসি প্রকল্প রাজ্যের মাছ চাষের উন্নয়নকে পরিপূর্ণতা প্রদান করছে। আজ বিধায়ক জীতেন্দ্র মজুমদার আনিত বেসরকারি প্রস্তাবের উপর আলোচনায় একথা বলেন মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস।

বেসরকারি প্রস্তাবটি হল ‘ত্রিপুরা রাজ্যকে মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলার লক্ষ্যে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে এই সভা ত্রিপুরা সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছে’। বেসরকারি প্রস্তাবটি উত্থাপন করে আলোচনা করতে গিয়ে বিধায়ক জীতেন্দ্র মজুমদার সহায়ক মূল্যে মাছের খাদ্য বিক্রি, পতিত জমিতে মাছ চাষের উপযোগী জলাশয় খনন এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি করে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করার জন্য অনুরোধ জানান।

বেসরকারি প্রস্তাবের উপর আলোচনায় মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, রাজ্যে প্রতি বছর মাথাপিছু ২৭.৮৩ কেজি মাছ প্রয়োজন। রাজ্যে বর্তমানে ৮৫,৮০৫.৬৮ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। তার পরেও ৩১,৪৮১৭৮ মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি রয়েছে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নতুন পুকুর খনন, পুরানো পুকুর সংস্কার ও পুনরুদ্ধার, মৎস্যচাষ সহায়ক সামগ্রী প্রদান এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। মৎস্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদা যোজনায় গত ৩ বছরে রাজ্য ১৯২.৮৬ কোটি টাকা পেয়েছে। এই যোজনায় এখন পর্যন্ত ১৭টি হ্যাচারি নির্মাণ করা হয়েছে। ডুম্বুর জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ১৫ ১২টি কেইজ কালচার স্থাপন করা হয়েছে। এই জলাশয়ের উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। তাছাড়া প্রাকৃতিক কিংবা মনুষ্যকৃত কারণে মাছচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দপ্তর থেকে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। আলোচনার পর বিধানসভায় এই বেসরকারি প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *