(বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য )
আগরতলা, ৩১ মার্চ : বর্তমানে বার্মিজ সুপারি বাজার দখল করায় সমগ্র রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ের সুপারি চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বহু বাগানে সুপারি বিক্রি না হওয়ায় গাছ থেকে সুপারি ঝরে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
একসময়ের আনারস এবং কমলা লেবু চাষ করে বিশেষত জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত। জম্পুই হিল সহ নাল কাটা বৈঠকবাড়ি দারছই, নেপাল টিলা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আনারস প্রচুর পরিমাণে আনারস চাষ হত। কমলালেবু এবং আনারসের পর জীবিকা নির্বাহের জন্য রাজ্যের মানুষ সুপারির উপর নির্ভর হয়ে পড়েছিল। ফলে একসময় সুপারি চারা বিক্রি করে ভালো ভাবে জীবিকা নির্বাহ করেছিল রাজ্যের বহু মানুষ।এমনকি বিকল্প কর্মসংস্থানে র জন্য রাজ্যের বেকার যুবকরা ও সুপারি চারা প্রতিবেশী রাজ্যে বিক্রি করে ভালো মুনাফা অর্জন করে চলছিল ।
কিন্তু বর্তমানে সুপারি চাষে ও ক্রমশ উৎসাহ হারাচ্ছে রাজ্যের বেকার যুবক থেকে শুরু করে রাজ্যের সুপারি উৎপাদকরা। অথচ কয়েক বছর আগেও সুপারি উৎপাদনের প্রতিযোগিতা চলতো।সাধারণ বেকার যুবক থেকে শুরু করে কৃষকরাও সুপারি চাষে মনযোগ দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বার্মিজ সুপারি গোটা রাজ্যে ছেয়ে যাওয়ার ফলে রাজ্যের সুপারির উৎপাদকেরা তাদের উৎপাদিত সুপারির বাজার পাচ্ছে না। ফলে প্রচণ্ডভাবে স্থানীয় সুপারি উৎপা দকরা মার খাচ্ছে। বার্মিজ সুপারি হাতের নাগা লের মধ্যে পাওয়া যাওয়ার ফলে রাজ্যের সুপারি আর ক্রেতাদের নজর কাড়ে না। আসামেও ত্রিপুরার সুপারি নিয়ে যেতে উৎপাদকদের বহু ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।
তাছাড়া আসামে ত্রিপুরার সুপা রির চাহিদা নেই এখন। অথচ একটা সমেয়ে ত্রিপুরার উৎপাদিত সুপারির বড় বাজার ছিল শিলচর, করিমগঞ্জ, বদরপুর সহ আসামের বেশ কয়েকটি এলাকায়।কিন্তু বর্তমানে বার্মিজ সুপারির দাপটে রাজ্যের সুপারির চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে।কয়েক বছর আগেও ত্রিপুরা রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ে সুপারি পাইকাররা সুপারি কিনতে ধর্মনগর কাঞ্চনপুর,দামছড়া, জম্পুই পাহাড়ের সুপারি বাগানে এসে বাগান চুক্তি সুপারি কিনে নিত। কিন্তু বর্তমানে বার্মিজ সুপারি বাজার দখল করায় সমগ্র রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ের সুপারি চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বহু বাগানে সুপারি বিক্রি না হওয়ায় গাছ থেকে সুপারি ঝরে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এ নিয়ে সুপারি চাষিদের মনে চরম হতাশা বিরাজ করছে।রাজ্যের গ্রাম পাহাড়ের একাংশ মানুষেরজীবিকা সুপারির উপর নির্ভরশীল ছিল।কি ন্তু কয়েক বছর ধরে সুপারি আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় মহাসঙ্কটে পড়েছে সুপারি উৎপাদকরা।রাজ্যের অনেক পরিবারের ভরণপোষণ সবই সুপারির উপরই নির্ভরশীল। কিন্তু রাজ্যের বাজারগুলিতে এখন প্রতিদিন বস্তায় বস্তায় বার্মিজ সুপারি ঢুকছে। দামছড়া দশরথ সেতু এবং চুরাইবাড়ি দিয়ে লরি লরি বার্মিজ সুপারি রাজ্যে ঢুকছে। বার্মিজ সুপারির চাহিদাও বেশি।ফলে স্থানীয় সুপারি উৎপাদকেরা মার খাচ্ছে।মাসের পর মাস ধরে এভাবে রাজ্যের সুপারি বিক্রি না হওয়ার ফলে পাহাড়ে অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে রাজ্যের সুপারি উৎপাদকেরা। উত্তর জেলা জম্পুই পাহাড়েই চার হাজার পরিবার সুপা রি উৎপাদন কমলালেবু থেকে লাভ জনক থাকায় লুসাইরা সুপারি চা ষে উৎসাহ দেখায়।কিন্তু বর্তমানে লুসাইরাও উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। সব মিলে সুপারি উৎপাদন ক্রমশ কমে যাচ্ছে! এর ফলে রাজ্যের মানুষের আর্থ সামা জিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।এর প্রভাব সমতলেও ভয়ঙ্কর ভাবে পড়ছে।