ইসলামাবাদ, ২৪ মে (আইএএনএস): পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের জারানওয়ালায় ২০২৩ সালে একাধিক গির্জা ও খ্রিস্টানদের বাড়িতে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জারানওয়ালার সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের অন্যতম এবং বর্তমানে ফয়সালাবাদের সেন্ট জোসেফের গির্জা-এর পুরোহিত খালিদ মুখতার অভিযোগ করেন, গত ৩১ মার্চ পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট পলাতক অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং সন্ত্রাসবিরোধী আদালতকে ছয় মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি।
খ্রিস্টান ডেইলি ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখতার বলেন, হামলায় জড়িত অনেকের ভিডিও ও ছবিসহ প্রমাণ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তিনি জানান, একাধিকবার শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে দেখা হলেও আশ্বাস ছাড়া বাস্তব ফল মেলেনি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩৩৬ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়লেও বর্তমানে মাত্র একজন জেলে রয়েছেন। বাকিদের জামিন দেওয়া হয়েছে অথবা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মুখতার আরও জানান, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী হামলায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিল। প্রথমদিকে প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হলেও দুর্বল তদন্ত এবং পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে অধিকাংশই পরে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকজন অভিযোগকারীকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ভয় দেখানো ও চাপ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, কোরআন অবমাননার অভিযোগে দুই খ্রিস্টান ব্যক্তিকে ঘিরে জারানওয়ালায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরবর্তীতে আদালত ওই দু’জনকে নির্দোষ ঘোষণা করে জানায়, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।
এদিকে, চলতি মাসে অনুষ্ঠিত আইআরএফ রাউন্ডটেবিল পাকিস্তান-এর এক আলোচনাসভায় পাকিস্তানে ধর্মীয় বৈষম্য, ধর্ম অবমাননা আইনের অপব্যবহার, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, বাল্যবিবাহ এবং সংখ্যালঘু নারী ও শিশুদের লক্ষ্য করে হওয়া ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
কাশিফ মির্জা বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যের কোনও স্থান থাকা উচিত নয়। তাঁর দাবি, শিশুরা ধর্মীয় বৈষম্যের সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে উঠছে এবং পাকিস্তানের উচিত সব নাগরিককে আইনের চোখে সমান সুরক্ষা দেওয়া।
এছাড়া মানবাধিকার কর্মী আনিলা আলী জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বিয়ে বন্ধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলির বিষয়ে পাকিস্তান প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
______



















