লখনউ, ২৪ মে (আইএএনএস): তীব্র গরম ও বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে শহর ও গ্রামীণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থাকে আরও জবাবদিহিমূলক ও গ্রাহককেন্দ্রিক করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
রবিবার জ্বালানি মন্ত্রী অরবিন্দ কুমার শর্মা, প্রতিমন্ত্রী কৈলাশ সিং রাজপুত এবং বিদ্যুৎ দফতর, পাওয়ার কর্পোরেশন ও বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে তিনি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করার নির্দেশ দেন। গ্রীষ্মকালে প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলি যতটা সম্ভব কমিয়ে এনে সঞ্চালন নেটওয়ার্কের উপর নিয়মিত নজরদারির কথাও বলেন তিনি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যের বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থার নেটওয়ার্ক ৬০,৮৫৮ সার্কিট কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের প্রাপ্যতার হার ৯৯.৩০ শতাংশ এবং ক্ষতির হার কমে ৩.২ শতাংশে নেমেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও বেশি জবাবদিহিমূলক ও গ্রাহকবান্ধব করতে হবে। ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া, ফিডার বিভ্রাট বা অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এপ্রিল ও মে মাসে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৫ এপ্রিল থেকে ২২ মে-র মধ্যে দৈনিক গড় বিদ্যুৎ চাহিদা ৫০১ মিলিয়ন ইউনিট থেকে বেড়ে ৫৬১ মিলিয়ন ইউনিট হয়েছে। একই সময়ে সর্বোচ্চ চাহিদা ২৯,৮৩১ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ৩০,৩৩৯ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।
দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জ্বালানি মন্ত্রীদের হেল্পলাইন কল সেন্টার পরিদর্শন করে পরিষেবার মান যাচাই করার নির্দেশ দেন।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, বিদ্যুৎ পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটলে দ্রুত ও সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে। স্বচ্ছতা ও দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা আরও বাড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৮৯.২৩ লক্ষ স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে। জুন মাস থেকে স্মার্ট মিটার গ্রাহকদের পোস্টপেইড ভিত্তিতে প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে বিল পাঠানো হবে। এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ই-মেলের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিল পৌঁছে দেওয়া হবে।
স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ১৫ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিশেষ শিবিরও আয়োজন করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষকদের সেচ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্পোন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।”
তিনি মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং গাফিলতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।
______



















